রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯


দুদক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ





বুধবার সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে বিক্ষোভ করেন প্রায় শতাধিক সংবাদকর্মী।

ঘণ্টাব্যাপী চলা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দুদককে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে বক্তব্যে দিতে দুই সাংবাদিককে তলব করে দুদক।

তারা হলেন বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ইমরান হোসেন সুমন ও

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ প্রতিনিধি দীপু সারোয়ার।

গতকাল মঙ্গলবার দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান শেখ মো. ফানাফিল্যা স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে তাদের আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।

দুটি চিঠিতেই অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণী হিসেবে উল্লেখ করা হয়, দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে আপনার সাক্ষ্যগ্রহণ ও শ্রবণ একান্ত প্রয়োজন।

উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আগামী ২৬/০৬/২০১৯ খ্রি. তারিখ ১০.৩০ ঘটিকায় নিম্নস্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো।

অন্যথায় আইনানুগ কার্যধারা গৃহীত হবে।

দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করার কারণে দুই সাংবাদিককে নোটিশ গণমাধ্যকর্মীরা ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছেন।

নোটিশের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

বিক্ষোভ কর্মসূটিতে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদ নিজাম বলেন, ‘দুদক থেকে চিঠির মাধ্যমে সাংবাদিকদের যে তলব করা হয়েছে, এটা কোনো চিঠির ভাষা হতে পারে না।

সাংবাদিকদের কাছে অনুসন্ধানের বিষয়ে সহযোগিতা চাইতে পারে কিন্তু এই ভাষায় চিঠি দিতে পারে না। চিঠির জন্য তাদেরকে (দুদক) ক্ষমা চাইতে হবে।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মহিউদ্দিন বলেন, দুদকে হাজার হাজার দুর্নীতির ফাইল পড়ে আছে তার খবর না রেখে একটি নিউজ করার দুই দিনের মধ্যে সাংবাদিককে চিঠি দেয়া হলো। এত বড় দায়িত্বশীল সংস্থা কিভাবে এমন ভুল করে? আমরা এই অসংগতিপূর্ণ চিঠি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’

সিনিয়র সাংবাদিক পারভেজ খান বলেন, চিঠিতে যে কথা বলা হয়েছে সেটা দুঃখজনক, লজ্জাজনক।

এ ধরনের কথা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এবার শুধু চিঠি প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার জন্য বলেছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আপনাদের মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেতে হবে।’



প্রকাশক ও সম্পাদক : শাহিন রহমান

অফিস : ১১৪ নাখালপাড়া, ঢাকা-১২১৫
Email : prothomshomoy@gmail.com