বুধবার , ২১ অগাস্ট ২০১৯


ডিআইইউ কনভোকেশনঃ একদিকে উল্লাস অন্যদিকে চোখের পানি !





বিশেষ প্রতিনিধি

মিরপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার। বেসরকারি অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কনভোকেশন প্রোগ্রামে জড়ো হয়েছেন সবাই। হাজার হাজার শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক সেখানে উপস্থিত। সবার চোখে মুখে খুশির ছাপ। গেট টুগেদার স্টাইলে সবাই একে অপরকে হাই হ্যালো করছেন। ব্যতিক্রম মাত্র একজন। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান, ট্রাষ্টি বোর্ডের সাবেক সদস্য অ্যাড সাহেদ কামাল পাটোয়ারি যিনি সংক্ষেপে এসকে পাটোয়ারি হিসাবেই পরিচিত। গরজিয়াস এই অনুষ্ঠানে সবার মাঝেই তিনি চরম্ভাবে অপমানিত হয়েছে নিজের ভাইদের কাছে। পিতৃ সমতুল্য বড় ভাই হলেও আপন সহোদরদের কাছ থেকে নুন্যতম মর্যাদা সেদিন তিনি পাননি।

এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। পরিবারের বড় সন্তান হিসাবে এস কে পাটোয়ারি বক্তব্য দেবেন এমন আশা মনে নিয়েই তিনি যোগ দিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তার পুত্র সন্তান। তিনি বক্তব্য দেবেন এমনটি জানতে পেরে প্রধান অতিথি নিজেও অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাধ সাধে (এস কে পাটোয়ারির ভাষায়) তার ছোট ভাই, জাতিয় পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটোয়ারি।

আলাপকালে এস কে পাটোয়ারি জানান, আগেভাগেই তিনি যাতে বক্তব্য না দিতে পারেন শামিম সেই ব্যবস্থা করেন। সন্তান সমতুল্য আপন ছোট ভাইয়ের এমন অমানবিক আচরণে মনের অজান্তেই এসকে পাটয়ারির চোখ ভারি হয়ে উঠে। সবার অজান্তে তিনি নিজেই নিজের চোখ নুছেন বারবার।
এস কে পাটোয়ারি জানান, জিবনে এমন অপমান তিনি আগে আর কখনো হন নি। আগে জানলে তিনি এই প্রোগ্রামেই যেতেন না। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি আছেন। আজকের এই অবস্থানে বিশ্ববিদ্যালয় আসার পেছনে ভাইদের অন্য সবার চেয়ে তার অবদান সবচেয়ে বেশি অথচ তিনি নিজেই আজ নিজ ঘরে একজন পরবাসী মাত্র। চরমভাবে তিনি আজ নিগৃহীত, ভাইদের কাছে তিনি যেনও করুনার পাত্র। অথচ এই ভাইদের তিনি সন্তান স্নেহে সারা জীবন দেখে এসেছেন।

জানা গেছে, পৈতৃক সুত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক পক্ষের তিনি একজন। পাটোয়ারি পরিবারের বড় সন্তান তিনি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে তিনি চরমভাবে অবহেলিত। তিনি না মালিক না কর্মচারী ! এমন অসম্মানজনক পরিচয় নিয়েই তিনি চলছেন অনেকটা মনের জোরে। সন্তান সমতুল্য ছোট দুই ভাইকে বিশ্বাস করে ২০০৮ এ চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছিলেন এস কে পাটোয়ারি। আর ফিরে পান নি সেই চেয়ার। হারিয়েছেন ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য পদ। আর্থিক ভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ তিনি। পদ পদবি হারিয়ে তিনি যতোটা ক্ষতিগ্রস্থ ততোটাই লাভবান আজ তার দুইভাই ও তাদের পরিবার।

তিনি জানান, ছোট দুই ভাইয়ের নিজ নিজ স্ত্রীরা আজ এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য। এমনকি তার ছোট দুই ভাইয়ের শ্বশুর শাশুড়িও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য। এই কারনে, তিনি নিজ পরিবার, আত্মীয় স্বজন, পরিচিত বলয়ে সবার কাছেই কমবেশি ছোট হয়ে আছেন।
(চলবে)



প্রকাশক ও সম্পাদক : শাহিন রহমান

অফিস : ১১৪ নাখালপাড়া, ঢাকা-১২১৫
Email : prothomshomoy@gmail.com