রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯


রাবি শিক্ষক শফিউল হত্যাকাণ্ড: ৩ জনের ফাঁসির রায়





অনলাইন ডেস্ক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া বাকি আটজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক অনুপ কুমার এ রায় দেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- আব্দুস সামাদ পিন্টু, আরিফুল ইসলাম মানিক ও সবুজ শেখ (পলাতক)। বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, সিরাজুল ইসলাম, আল মামুন, আরিফ, সাগর, জিন্নাত আলী, ইব্রাহিম খলিল ও নাসরিন আখতার রেশমা।

রায়ের বিষয়ে অধ্যাপক শফিউল আলমের ছেলে সৌমেন শাহরিদ বলেন, এ রায় নিয়ে আমার কোনও মন্তব্য নেই। কারণ আমি আগেই বলেছি, এই মামলার তদন্ত নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এ জন্য রায় নিয়ে আমি এখনই কোনও মন্তব্য করবো না।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মর্তুজা বলেন, ১১ জন আসামিদের মধ্যে আদালত তিনজনকে ফাঁসি ও আটজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। আমরা ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো। কারণ যে ৩৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, তারা কেউই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামিদের সম্পৃক্ত রয়েছে এমন কিছু উল্লেখ করতে পারেনি।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি এন্তাজুল হক বাবুল বলেন, আদালত বিচক্ষণ রায় দিয়েছেন। আমরা মনে করি, এ রায়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের হত্যার যে সংস্কৃতি তা কমবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে খুন হন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম শফিউল ইসলাম লিলন। পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তে বেরিয়ে আসে ব্যক্তিগত কোন্দলের জেরেই খুন হন এই শিক্ষক শফিউল ইসলাম। যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আখতার রেশমা।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২৩ নভেম্বর রেশমার স্বামী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আবদুস সামাদ পিন্টুসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে গোয়েন্দা পুলিশ রেশমাকেও গ্রেপ্তার করে। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে রেশমা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন।

২০১৫ সালে ৩০ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিউল ইসলাম লিলন হত্যা মামলায় যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রেজাউস সাদিক।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখায় কর্মরত নাসরিন আখতারের সঙ্গে শফিউল ইসলামের দ্বন্দ্বের জের ধরেই তার স্বামী যুবদল নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। পরে নাসরিন আখতারও বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।



প্রকাশক ও সম্পাদক : শাহিন রহমান

অফিস : ১১৪ নাখালপাড়া, ঢাকা-১২১৫
Email : prothomshomoy@gmail.com