বুধবার , ১৬ জানুয়ারী ২০১৯
  • হোম » সারা দেশ » খুলনাঃ রাজনৈতিক পরিচয়ে নারি কর্মীদের বেপরোয়া অনৈতিক জীবন


খুলনাঃ রাজনৈতিক পরিচয়ে নারি কর্মীদের বেপরোয়া অনৈতিক জীবন





বিশেষ প্রতিনিধিঃ
খুলনা মহানগরীতে একটি দলের অঙ্গসংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে দশ থেকে পনের জনের নারি কর্মীরা প্রকাশ্যে বেপরোয়া জীবন যাপন করছে। রাজনৈতিক প্রভাবে তারা প্রকাশ্যেই দেহ ও মাদক ব্যবসা করছে। গড়ে তুলেছে নিজেদের মধ্যে শক্তিশালি সিন্ডিকেট। প্রভাবশালী মহলে তারা বিনোদনের জন্য মেয়েও সরবরাহও করে, এমন অভিযোগ ওপেন সিক্রেট। অতি সম্প্রতি এদের মধ্যে একজন নেত্রি কিশোরী মেয়েকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করতে গিয়ে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে ধরাও পড়েছে। সেই বিষয়ে আদালতে শুনানি চলমান। তবুও তাদের মধ্যে কোনও লাজ লজ্জা কিংবা অপরাধবোধ নেই। বরং তারা আগের মতোই বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করছে। তাদের সার্বিক চাল চলনে খুলনা মহানগরীতে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে তেমনি মুল দল এবং অঙ্গসংগঠনের প্রকৃত নেতা কর্মীরা চরমভাবে বিব্রত। ভাল পরিবারের মেয়েরা এদের কারনে দলে যেমন সক্রিয় হতে পারছে না, তেমনি অনেক সক্রিয় মেয়েরাও মান সম্মান ও চক্ষু লজ্জার কারনে দলে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ছে। দলে বর্তমানে তাদের পদ পদবি না থাকলেও তারা এখনও ড্যাম কেয়ার স্টাইলে চলা ফেরা করছেন।

অতি সম্প্রতি, মুল দলের এক শীর্ষ নেতা এইসব বেপরোয়া মেয়েদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিলে দলের সাধারন নেতা কর্মীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিন্ডিকেটের অলিখিত প্রধানের অপরাধের পরিমাণও শীর্ষে। একটি সম্মানজনক পেশায় তার অবস্থান হলেও তিনি এই পর্যন্ত তিনটি বিয়ে করেছেন। মাঝের বিয়েটি আজও অতি নিকটজনদের কাছে জানাজানি হলেও গোপনীয় রয়েছে সমাজের কাছে।

প্রাপ্ত সুত্রগুলি বলেছে, প্রথম বিয়ে হয় তাদের পরিবারেরই এক কেয়ার টেকারের সঙ্গে। খুলনা নোয়াপাড়ার মাঝামাঝি কোনও এক জায়গায় তার শ্বশুরবাড়ী। বনিবনা না হওয়ায় সেই স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে, সেই ঘরে এক ছেলে রয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ে হয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্যের সঙ্গে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে চলাফেরা করে এমন একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায় দ্বিতীয় সংসার চলা কালীন তিনি পরিচিত হন এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ির সঙ্গে। সল্প সময়েই তার সেই দ্বিতীয় সংসার নিজ থেকেই ইস্তফা দেন। বিয়ে করেন তৃতীয়বারের মতো। নিজের তৃতীয় স্বামীর ঘরে অন্য বউ বিদ্যমান থাকায় তিনি আজো সেই শ্বশুর বাড়িতে যেতে পারেন নি। তবে খুলনা এলাকাতে নিয়মিত মটর সাইকেলে তৃতীয় স্বামীকে নিইয়ে চলাফেরা করতে দেখেছে কম বেশি সবাই। স্বামীকে নিয়ে বাসা নেন আলাদা। অভিযোগ আছে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে সেখানে আসর বসে অনেকটা আগের আমলের রাজা বাদশাদের স্টাইলে। মদ, মেয়ের সমারোহে এসব জলসায় অনেক রথি মহারথীদের যাতায়াত ছিল। অন্যদিকে, বউয়ের বেপরোয়া আচরণে প্রথম সামি ডিভোর্সের পরে ঢাকা মুখি হন। এর মধ্যে অনেকটা বাংলা সিনেমার মতোই নাটকীয়ভাবেই ঢাকাতে প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার দেখা হয়ে যায়। এর পরে আরও নাটকিয় ঘটনা। তৃতীয় স্বামীকে ডিভোর্স না দিয়েই প্রথম স্বামীর সঙ্গেই আবার ঢাকাতে থাকা শুরু করেন। তৃতীয় স্বামী জানতে পেরে গুটিয়ে নেন নিজেকে। ফলে তিনি তৃতীয় স্বামীকে যেমন তালাক দেননি তেমনি প্রথম স্বামীকে কোনও হিল্লে বিয়ে ছাড়াই তার সঙ্গে লিভ টুগেদার করছেন। এর বাইরেও এই নেত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচনের সময়ে নেতা কর্মীদের টাকা মেরে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে, একাধিক দোকান থেকে হাজার হাজার টাকা বাকি নিয়ে সেই সব দোকানের টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে।
(চলবে)



প্রকাশক ও সম্পাদক : শাহিন রহমান

অফিস : ১১৪ নাখালপাড়া, ঢাকা-১২১৫
Email : prothomshomoy@gmail.com