বৃহস্পতিবার , ২৭ জুন ২০১৯


দশক ধরে সংজ্ঞাহীন নারীর সন্তান প্রসব





অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক কেয়ার হোমে এক দশকেরও বেশি সময় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় থাকা এক রোগী বাচ্চা জন্ম দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এ ঘটনা গোটা দেশ জুড়ে প্রবল আলোড়ন তৈরি করেছে।

এই ঘটনার জের ধরে ওই কেয়ার হোমের পরিচালনা কোম্পানির প্রধান নির্বাহী পদত্যাগ করেছেন। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরের কাছে। সেখানে হাসিয়েন্দা হেলথ কেয়ারের একটি ক্লিনিকে ঐ নারী ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চেতনাহীন অবস্থায় ছিলেন এবং তাকে সার্বক্ষণিক সেবা দিতে হতো।

কিন্তু ওই নারী গত ২৯ ডিসেম্বরে একটি সন্তান জন্মদান করেন। রোগীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সেখানকার স্থানীয় এক চ্যানেল কেএইচ-ও টিভি তার সংবাদে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলেছে ‘আমি যেটা শুনছি তা হলো হঠাৎ করেই ঐ রোগী গোঙাতে থাকেন। এবং কেউ বুঝতে পারছিলেন না তিনি কেন গোঙাচ্ছিলেন। বাচ্চার জন্ম দেয়ার আগ পর্যন্ত স্টাফদের কেউই বুঝতেই পারেননি যে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা।’

অচেতন রোগীর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে হাসপাতাল কর্মীরা হতবাক হয়ে পড়েন।

কেয়ার হোমের মালিক কোম্পানির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্যারি অরম্যান বলেন, ‘এই ভয়াবহ ঘটনার পুরোটা না জানা পর্যন্ত আমরা থেমে থাকবো না।’

প্রভাবশালী পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস খবর দিচ্ছে যে ঐ কেয়ার হোম সম্পর্কে কিছু নতুন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে বলা হচ্ছে, ‘ভিজিটেটভি স্টেটে’ থাকা এসব সংজ্ঞাহীন রোগীদের পোশাক পরিবর্তন বা তাদের গোসল করানো সময় তাদের নগ্ন করে রাখা হতো এবং কোন ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা হতো না।

এই ঘটনায় ফিনিক্স পুলিশের একজন মুখপাত্র বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি আরো বলেন, এই ঘটনা নিয়ে তাদের তদন্ত চলছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কেয়ার হোমের কিছু নিয়মকানুনে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এখন কেয়ার হোমের কোনো পুরুষ কর্মী কোনো নারী রোগীর ঘরে ঢুকতে চাইলে তাকে একজন নারী সহকর্মীকে সঙ্গে রাখতে হবে।

কেয়ার হোম কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা পুলিশের তদন্তের সাথে পরিপূর্ণভাবে সহযোগিতা করছে।

হাসিয়েন্দা হেলথ কেয়ারটি কঠিন অসুখে পড়া রোগী, দুর্বল নারী, শিশু, টিনএজার ও তরুণদের তারা সেবা দিয়ে থাকে।



প্রকাশক ও সম্পাদক : শাহিন রহমান

অফিস : ১১৪ নাখালপাড়া, ঢাকা-১২১৫
Email : prothomshomoy@gmail.com