মঙ্গলবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৮


পাবনা ৪ : চ্যালেঞ্জের মুখে ভূমিমন্ত্রী, জয়ের আশা বিএনপির





অনলাইন ডেস্ক : বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়ায় পাল্টে গেছে নির্বাচনী মাঠের হিসাব-নিকাশ। সারাদেশের মতো পাবনায়ও জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। কে কোন দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন সেই আলোচনাই এখন গোটা পাবনা জুড়ে। আওয়ামী লীগের হাই-প্রোফাইল নেতারা এ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে চান। অপরদিকে দ্বন্দ্ব কাটিয়ে আসনটি ফিরে পেতে চায় বিএনপি।

পাবনা-৪ আসন ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলার দুই পৌরসভা ও ১২ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত পাবনা-৪ আসন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৪ জন।

পাবনা-৪ আসন থেকে চারবারের এমপি ভূমিমন্ত্রী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুর রহমান শরীফ একাদশ সংসদ নির্বাচনেও এই আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। চার বার বিজয়ী হলেও বর্তমানে নির্বাচনের পরিস্থিতি ভিন্ন। পরিবারের সদস্যদের দূর্ণীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলের ত্যাগী নেতৃত্বকে অবমূল্যায়নের অভিযোগ ওঠায় পাবনা-৪ আসনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আওয়ামীলীগ। ভূমিমন্ত্রী পরিবারের সদস্যরা সন্ত্রাস, ভূমি দখল, টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। দলীয় কমিটি গঠনে ত্যাগী নেতৃত্বকে মূল্যায়ন না করায় দুরত্ব বেড়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও।

তবে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ নিজেকে পাবনা-৪ আসনে অপ্রতিদ্বন্দী দাবি করে আগামী নির্বাচনেও মনোনয়নের ব্যপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তার সময়ে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া আসনে যে উন্নয়ন হয়েছে তাতে এ এলাকার মানুষ বার বার আমাকে নির্বাচিত করেছে। আগামীতে সে অগ্রযাত্রা অব্যহত রাখতে জনগণ নৌকাতেই আস্থা রাখবে। যেখানে আমি নির্বাচনে মনোনয়ন চাইছি, সেখানে অন্য কে মনোনয়ন চাইল দেখার বিষয় না।

ভূমিমন্ত্রী ছাড়াও এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আইনজীবী রবিউল আলম বুদু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাস, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব) নজরুল ইসলাম রবি।

মনোনয়ন বিষয়ে গৃহদাহ রয়েছে মন্ত্রীর নিজ পরিবারেও। নৌকার মাঝি হতে চাইছেন মন্ত্রী কন্যা মেহেজাবিন শিরীন এবং মেয়ে জামাই আবুল কালাম আজাদ মিন্টু। এছাড়া মনোনয়ন চাইছেন মিজানুর রহমান স্বপন, ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু ফকির, অধ্যাপক আকরাম হোসেন।

অপরদিকে এবারে এই আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার। তবে নেতাকর্মিরা তার ওপর হতাশ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার বাইরে আছেন বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকদের দাবি, এবার মনোনয়ন পাবেন তিনি। এ ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলেও তাঁরা জানান। এছাড়াও  উপজেলা বিএনপি সভাপতি শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু, বিএনপি নেতা ও শিল্পপতি আকরাম আলী খান সঞ্জু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, ললিতা গুলশান মিতা, অ্যাডভোকেট জামিল আক্তার এলাহী মনোনয়ন প্রত্যাশী।

১৯৯১ সালে আসনটিতে বিএনপির সিরাজুল ইসলাম সরদার নির্বাচিত হন। ১৯৯৬, ২০০১ সালে সিরাজ সরদার বিএনপির মনোনয়ন পেলে, বিদ্রোহী প্রার্থী হন কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব। ২০০৮ সালেও হাবিব বিরোধীতা করেন বিএনপি প্রার্থীর। বিএনপির দলীয় কোন্দলে প্রতিবারেই সহজ জয় পায় আওয়ামীলীগ। তবে এই পরিস্থিতির উত্তরণ চান বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা। তাঁরা মনে করেন, কোন্দল কাটিয়ে উঠতে পারলে এই আসনে জয় পাবে বিএনপি।



প্রকাশক ও সম্পাদক : শাহিন রহমান

অফিস : ১১৪ নাখালপাড়া, ঢাকা-১২১৫
Email : prothomshomoy@gmail.com