মঙ্গলবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৮


আমি আগন্তুক নই : নাজমা আখতার





বিশেষ প্রতিনিধি : আমি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে গত ৪ দশক ধরে যুক্ত আছি, এ দলে আমি আগন্তুক নই। ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন, গত ১৮ বছর এই দায়িত্ব দফায় দফায় পালন করছি। ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত আমি সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ছিলাম। ২০০৮ ও ১৪ সালে আমি ঢাকা-১৮ অর্থাৎ এই আসন থেকেই মনোনয়ন চেয়েছিলাম। এবারও ১৮ আসন থেকে আমি মনোনায়ন চাই। আশা করি দুই বারের পর এবার আমাকে অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে। প্রথম সময়ের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আখতার। গত শনিবার নিজ নির্বাচনী এলাকায় বড় ধরনের শোডাউন করে তিনি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। এই আসনে এমপি হিসেবে আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাড সাহারা খাতুন। তিনি একই সঙ্গে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য।জানা গেছে, সাহারা খাতুন বয়সের কারণে প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। দল ও নেতাকর্মীদের আগের মতো সময় দিতে পারেন না। নিজ নির্বাচনী এলাকাতেও আগের মতো মনোযোগ নেই। এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থাও ভালো নয়। দেশব্যাপী হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হলেও উন্নয়নে পিছিয়ে আছে ঢাকা-১৮ আসন। চরমভাবে এই এলাকা অবহেলিত, অনুন্নত। দলের নেতা কর্মীদের প্রত্যাশা, এবার সাহারা খাতুনকে বদল করে নতুন প্রার্থী দেয়া হবে। নতুন প্রার্থী তালিকাতে এগিয়ে আছেন গোপালগঞ্জের মেয়ে ক্লিন ইমেজের অধিকারী নাজমা আখতার। এর আগেও তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। নাজমা আখতার, এক সময়ের ছাত্রলীগের নেত্রী। জন্ম থেকেই আওয়ামী পরিবারের সদস্য। এক ভাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই তার দাফতরিক টিমে কর্মরত। আরেক ভাই গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের জেলা কমিটিতে যুগ্ম-সম্পাদক আছেন। ’৯০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের সভাপতি ছিলেন নাজমা। ছাত্র রাজনীতির পুরা সময়ই রাজপথে মিছিল-সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়েছেন জীবনবাজি রেখে। ছাত্র রাজনীতি ছেড়ে ২০০১-এর দিকে যুব মহিলা লীগের দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনার নির্দেশে। সেই থেকেই আজ অবধি একই দায়িত্বে আছেন তিনি। সারাদেশেই যুব মহিলা লীগকে সংগঠিত করেছেন অনুজ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিলকে নিয়ে। দেশব্যাপী আজ যুব মহিলা লীগ প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠন। পরিচিত একটি সংগঠন।দলের ভেতরে-বাইরে মিডিয়াবান্ধব সাবেক এমপি নাজমা আখতারের রয়েছে পরিচ্ছন্ন ইমেজ। দুই দফায় দল ক্ষমতাসীন থাকলেও অন্য দশজন নেতার মতো দুর্নীতি বা তদবিরের পেছনে দৌড়ের অভিযোগ নেই তার বিরুদ্ধে। টকশোতে পরিচিত মুখ নাজমা কথা বলেন ঠাণ্ডামাথায়। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করেন ব্যক্তিত্ব, মেধা, যুক্তি দিয়ে। জানা গেছে, গত শনিবারে উত্তরার ৩নং সেক্টরের ২নং সড়কের হাঙরি ডাক রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করে আজমপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে আব্দুল্লাহপুর ও এর আশপাশ এলাকা প্রদক্ষিণ করে নাজমা আক্তারের নির্বাচনী গনসংযোগ মিছিলটি। পরে উত্তরার ৩নং সেক্টরে এসে সংক্ষিপ্ত ভাষণের মাধ্যমে গণসংযোগ শেষ করেন তিনি।গণসংযোগ চলাকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর থেকে হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত সাময়িক সময়ের জন্য যান চলাচল কমে যায়। কয়েকশ’ মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রো ও দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে নাজমা আখতারের এই শোডাউন ছিল দেখার মতো। এভাবেই এবার প্রকাশ্যে এলেন নাজমা আখতার, নিজের প্রার্থী হিসেবে আসার আগাম বার্তা জানিয়ে দিলেন তিনি ও তার সমর্থকরা।ক্ষমতাসীন দল থেকে প্রায় ৬ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা উত্তরা তথা ঢাকা-১৮ আসনে। এতদিন যুব মহিলা লীগ সভাপতি নাজমা আখতারের নাম কাগজে-কলমে থাকলেও শনিবার তিনি এলেন প্রকাশ্যে। হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থক নিয়ে প্রথমবারের মতো তিনি উত্তরার প্রধান সড়কগুলোতে নির্বাচনী শোডাউন করে রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছেন।এলাকার প্রতিটি রাস্তাই নাজমা আখতারের ব্যানার, ফেস্টুন, প্যানাতে ভরে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ নাগরিকদের মতে, এযাবৎকালে যারাই উত্তরায় নির্বাচনী গণসংযোগ করেছেন তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন নাজমা। এ নিয়ে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অন্য দলের কর্মী-সমর্থকদেরও ছিল বেশ কৌতূহল। আলাপকালে নাজমা আখতার জানান, স্থানীয় নেতাকর্মীদের চাপ আছে আমাকে প্রার্থী করার ব্যাপারে। আমার নির্বাচনী এলাকা দেখলে ঘুরলে চোখে পানি চলে আসে। শেখ হাসিনা দেশব্যাপী এত উন্নয়ন করেছেন, অথচ ঢাকা-১৮ পিছিয়ে রয়েছে উন্নয়নের দিক দিয়ে। তাকে প্রার্থী করা হলে বিজয়ের মুকুট তিনি শেখ হাসিনাকে তুলে দিতে পারবেন, এমন দাবি তার।



প্রকাশক ও সম্পাদক : শাহিন রহমান

অফিস : ১১৪ নাখালপাড়া, ঢাকা-১২১৫
Email : prothomshomoy@gmail.com