শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯


ঢাকা-৭ : আওয়ামী লীগের সাবেক-বর্তমানের লড়াই





অনলাইন ডেস্ক : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশী হেভিওয়েট প্রার্থীদের অন্তর্কোন্দলে অস্বস্তিতে আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অন্তর্কোন্দলে জর্জরিত একাধিক আসনের অন্যতম ঢাকা-৭ আসন।

ঢাকা-৭ আসনটি জাতীয় সংসদের ১৮০নং আসন। ঢাকা মহানগরীর বংশালের একাংশ, কোতয়ালির একাংশ, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ ও ধানমণ্ডির একাংশ নিয়ে গঠিত এই আসনের ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ২৬৯ জন।

এই নির্বাচনী এলাকাটি ৯ম জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ঢাকা-৮ আসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই এলাকাটিতে বিভিন্ন দল ও রাজনীতিবিদের প্রভাব সম্পর্কে বুঝতে ঢাকা-৮ আসনের ফলাফল পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

অতীতের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা-৭ আসনটির ব্যাটন বারবার আওয়ামী লীগ-বিএনপির হাতবদল হয়। আর আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে এই ব্যাটন বদল হয় হাজী মো. সেলিম এবং মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের মধ্যে।

এই আসন থেকে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মীর শওকত আলী, ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাজী মো. সেলিম, ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতা মো. নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। সেবার তিনি ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৪৭ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুকে প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। পিন্টু পান ৭০ হাজার ৭৪৭ ভোট।

বর্তমানে এই আসন থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি স্বতন্ত্র প্রার্থী জনাব হাজী মো. সেলিম। দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়ায় সেলিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং মহিউদ্দিনকে হারিয়ে জয়লাভ করেন।

পরবর্তীতে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা হাজী সেলিম ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগে ফিরেছেন। এবারও আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তিনি। আর সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনও যে এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন সে কথা বলাই বাহুল্য। ঢাকা-৭-এর রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে আওয়ামী লীগের এই দুই নেতার দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো।

গত জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে হাজী সেলিম ও মোস্তফা জালালের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব আরও বেড়েছে। `জালাল গ্রুপ` ও `হাজী সেলিম গ্রুপ` নামের দুটি পৃথক বলয় তৈরি হয়ে গেছে এ এলাকায়। দুই নেতার সমর্থক নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্বও থেমে নেই। এমনকি এই দুই নেতার দ্বন্দ্বে পেশীশক্তির ব্যবহারও ঘটতে দেখা গেছে।

বর্তমানে হাজী সেলিম প্রচণ্ড অসুস্থ। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার আগেও ২০১৬ সালের জাতীয় শোক দিবসে মোস্তফা জালালের উপস্থিতিতে এলাকায় স্থানীয় যুবলীগ আয়োজিত দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছিল হাজী সেলিমের অনুসারীরা। তবে বর্তমানে এই ডাকসাইটে নেতা গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকায় দলীয় রাজনীতিতে অনেকটাই কোণঠাসা।  এমন অবস্থায় হাজী সেলিম তাঁর ছেলে মোহাম্মদ সোলায়মান সেলিমকে নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসেবে তৈরি করতে চাইছেন। পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মদিনা গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআইর পরিচালক সোলায়মান সেলিম বর্তমানে  সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

প্রচার প্রচারণায় পিছিয়ে নেই এই এলাকা থেকে তিনবার নির্বাচন করা মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনও। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সাবেক এই কেন্দ্রীয় নেতা ইতোমধ্যেই উঠান বৈঠক, আলোচনা সভাসহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

অন্তর্কোন্দলের মীমাংসা করে সলীয় সংহতি বজায় রেখে ঢাকা-৭ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে আওয়ামী লীগকে বেশ বেগ পোহাতে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



প্রকাশক ও সম্পাদক : শাহিন রহমান

অফিস : ১১৪ নাখালপাড়া, ঢাকা-১২১৫
Email : prothomshomoy@gmail.com