বুধবার , ১৪ নভেম্বর ২০১৮


ক্ষণজন্মা লিডার তরিকুল : তোমাকে স্যালুট!





আমার সাবেক সহকর্মী শাহিন রহমান টেলিফোন করেছিলেন ৪ নভেম্বর রাতের দিকে। হঠাৎ করেই তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন তার অন লাইনের জন্য তরিকুল ইসলামকে নিয়ে একটি স্মৃতিচারণ লেখা দিতে । আমরা দুজনা দুটি বিপরীত মুখি মিডিয়াতে এক সময় কাজ করেছি। দু জনার মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল, কিন্তু কোনদিন হৃদ্যতার ঘাটতি হয়নি। তার মুঠো ফোনে অনুরোধের পর তাকে বললাম তরিকুল ভাই মৃত্যুর খবর শুনেছি বিকালে সাড়ে ৫টায় ,এখন রাত দশটা ৪/৫ লাইন ছাড়া কিছু লিখতে পারিনি। তবে কাল চেষ্টা লিখব। সেই হিসাবে জানাজা নামাজ শেষ করে খুলনায় ফিরে রাতেই এই লেখা।

সময়টা তখন ১৯৮১ সাল। সবে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে হাটিয়ে ক্ষমতা নিয়েছেন হুসাইন মো: এরশাদ সামরিক শাসক হিসাবে । সেই সময় বয়রা সার্কিট হাউসে থাকতেন ম্যাজিষ্টেট শামসুল হক ,তিনি ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তা সম্পাদক আসাফুদোলা রেজার জামাতা । বয়রা সার্কিট হাউসটিতে তৎকালিন সেনা শাসকের অস্থায়ী সেনা্ ক্যাম্পও ছিল। দৈনিক ইত্তেফাকের খুলনা প্রতিনিধি হিসাবে সেখানে যাতায়াত ছিল মরহুম আইয়ুব হোসেনের । আইয়ুব ভাইকে মটর সাইকেলে বহন করে আমাকে নিয়ে যেত হত সেখানে।

একদিন বয়রা সার্কিট হাউসে থাকায় অবস্থায় পাশের রুমে একজন মানুষের আর্তনাদ শুনতে পেলাম। পরে ম্যাজিষ্টেট শামছুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পাশের রুমে বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামকে ধরে এনে নির্যাতন করা হচ্ছে। কারন তাকে আগে বিএনপি ছেড়ে এরশাদ সরকারের যোগদানের জন্য তাকে পূর্ন মন্ত্রীর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে । কিন্তু তরিকুল ইসলাম রাজি না হওয়াই তার উপর এই নির্যাতন । নির্যাতন বর্ননা শুনে আৎকে উঠেছিলাম কারন তৎকালিন সামরিক জান্তা প্লাস [যন্ত্রাংশ খোলার যন্ত্র ] দিয়ে তার দাঁত উপড়ে ফেলেছে । তবে তরিকুল ইসলাম কোন অবস্থায় বিএনপি ত্যাগ করতে রাজি বিএনপি বিরুদ্ধে কোন অবস্থান নিতে তিনি রাজী নন । কোন প্রলোভনের কাছে আত্নসমার্পন না করায় সেদিন থেকে তরিকুল ইসলামের উপর আমার ভক্তি শ্রদ্ধা্ বেড়ে যায় । পরে মরহুম আইয়ুব ভাই কাছে শুনেছি তরিকুল ভাইর বাম রাজনীতি ত্যাগ তীতিক্ষার কথা।

কলেজ জীবনে ছাত্র নেতা হিসাবে প্রচন্ড জন প্রিয় ছিলেন তরিকুল ভাই । এম এম কলেজে ভিপি হয়ে ছিলেন। তরিকুল ভাই, খালেদুর রহমান টিটো ঘনিষ্ট সহকর্মী ছিলেন ইত্তেফাকের মরহুম আইয়ুব ভাই । মরহুম আইযুব ভাইয়ের কাছে তরিকুল ভাই এর রাজনীতি গল্প শুনে তার প্রতি কেমন জানি অসক্ত হয়ে পড়ি । এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সময় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জনসভা কভার করার জন্য আমি আর আইয়ুব ভাই মিলে কুষ্টিয়া্ থেকে বরিশাল পযর্ন্ত ঘুরেছি। নিউজ কাভার করেছি । এই সময় খুলনা ইত্তেফাক অফিসে প্রথম ফ্যাক্স মেশিন বসানো হয় । তৎকালিন সময় দৈনিক ইত্তেফাক ছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে । তাই এই প্রত্রিকায় সকল সাংবাদিকদের কদর ছিল।

এই সময় তরিকুল ভাই সাথে নতুন করে পরিচিতি হয় । আইয়ুব ভাই কাছে আমার আদি বাড়ী যশোরের মনিরামপুর শুনে তরিকুল ভাই খুশি হন। ফলে ঘনিষ্টতা দিন দিন বাড়তে থাকে । তরিকুল ভাইর সাথে কত স্মৃতি তার কোন রেখে কোনটা লিখবো তার হিসাব করতে খেই হারিয়ে যায় । যশোর ৫ অথাৎ মনিরামপুরে এমপি টিপু সুলতান । তিনি মনিরামপুর যাবার পথে তার গাড়ী চাপায় এক স্কুল ছাত্র নিহত হয় । এই ঘটনায় এলাকার লোকজন ফুসে উঠে , তারা মনিরামপুর থেকে ফেরার পথে টিপু সুলতান এমপির গাড়ী আটকানোর প্রস্তুতি নিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে ছিল। এই সময় কেশবপুর থেকে তরিকুল ইসলাম যশোর ফিরছিলেন। ঘটনা শুনে তিনি মনিরামপুরে অবস্থান রত টিপু সুলতানকে নিজ গাড়ীতে করে যশোর নিয়ে আসেন। বিপদে পড়লে সে যে দলের হোক তার পাশে দাড়ানো ছিল তরিকুল ভাই একটি ধর্ম।

১৯৯৬ সালে ডিসেম্বরে বসুন্দিয়াই সড়ক দুর্ঘটনায় আমার ছোট ভাই আবু সালেহ নিহত হয়। ভোর রাতে আমি যখন খবরটি পাই প্রথম টেলিফোন করে প্রয়াত সাংবাদিক জনকণ্ঠের শামছুর রহমান কেবল ভাইকে জানায় । তারপর সড়ক পথে খুলনা –থেকে যশোর গিয়ে দেখি সেখানে তরিকুল ইসলাম যশোর হাসপাতালে নিজে উপস্থিত। আমাকে শামছুর রহমান কেবল ভাই তার অফিসে বসিয়ে শান্তনা দিয়ে ভাই মৃত্যুর খবরটি জানান। আমি বাকরুদ্ধ হয়ে কি করবো তা ভাবতেই পারছিলাম না। তখন তরিকুল ভাই আমার ছোট ভাইয়ের মৃত দেহর ময়নাতদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে গাড়ীর ব্যবস্থা করে লোক দিয়ে আমাকে খুলনা পাঠানো ব্যবস্থা করেন।

পরে কেবল ভাই বলে ছিল শুধু আমার ভাই না ঐ দিনের দুঘটনায় সকল নিহতদের তরিকুল ভাই বিশেষ ব্যবস্থা ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে লাশ গন্তব্য স্থানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ছিলেন তার নিজ খরচে । ঢাকার দৈনিক খবরের পত্রিকার এক সাংবাদিক[ নামটা এই মুহুর্তে মনে আসছে না ] যশোরে ব্যক্তিগত কাজে এসে হৃদক্রীয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন। তখনও তরিকুল ভাই নিজ খরচে সেই সাংবাদিকের লাশ ঢাকা পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়ে ছিলেন।

এখানে আর একটি কথা না বললেই নয় যশোরে উদীচী অনুষ্টানে বোমা হামলার পর তরিকুল ভাই খুলনায় আমাকে টেলিফোন করে বলেছিলেন, খুলনা থেকে এ্যাম্বুলেন্স পাঠানো ব্যবস্থা করতে । আর যাদের তিনি যশোর থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন তাদের চিকিৎসার খোজ খবর নিতে । রাত ভোর তিনি টেলিফান করে খোজ নিয়ে খুলনায় পাঠানো রোগিদের কি অবস্থা । আমার প্রতি নির্দেশ ছিল চিকিৎসার জন্য যা দরকার আমি যেন তাই করি। এমনকি শেষ রাতে তিনি খুলনা ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত নেবার ব্যবস্থা করতেও বলেছিলেন।

এছাড়া তরিকুল ভাই সাথে ঘুরে দেখেছি বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতা –কর্মীদের নাম বলতে পারতেন। কোনদিন শুনি নাই কাউকে বলছেন তোমার নাম যেন কি ? দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার বের হবার আগে হতেই তিনি পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ফকির শওকাতকে আমার কথা বলে রেখে ছিলেন।

তরিকুল ভাই দল মত নির্বিশেষে একটি নিরপেক্ষ পত্রিকা তার মতে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর মতো করতে চেয়ে ছিলেন। যাত্রা শুরু হয়ে ছিল সেভাবে ,কিন্তু ২০০৮ সালের পর তার ছন্দ পতন ঘটে । পত্রিকাটি তার পুরানা ঐতিষ্য আর ধরে রাখতে পারেনি। ফকির শওকাত সম্পাদক পদ ছেড়ে দেবার পর তরিকুল ভাই আমকে কয়েকবার বলেছেন, ‘তুই যশোরের ছেলে, বাপের জমি-জমা আছে- তাই যশোরে চলে আয়। রাজনীতি কর আর দৈনিক লোকসমাজটা চালা ‘ কিন্তু আমি জন্মস্থান খুলনা ছেড়ে কোথাও যেতে রাজি হয়নি।

দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার শুরু থেকেই আমি তার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। দৈনিক লোকসমাজের ক্যামেরাম্যান হানিফ ডাকুয়াকে আমি নিজে খুলনা থেকে নিয়ে যশোরে তরিকুল ভাই হাতে দিয়ে এসেছিলাম । আমার সাথে তার কথা ছিল আমার সব সংবাদই ছাপাতে হবে। বস্তুনিষ্ট সংবাদ হলে তার দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও লেখার অনুমতি ছিল আমার।

শীর্ষ সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের অধরাপ জগৎ এর খবর প্রথম ধারাবাহিক ভাবে ছাপা হয় দৈনিক লোক সমাজে । এই সিরিজ বন্ধ করার জন্য এরশাদ শিকদার নানা ভাবে চেষ্টা করেই সফল হতে পারেনি। দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারনে আমি সাহসি সাংবাদিকতা করতে পেরেছি । একথা আমাকে স্বীকার করতেই হবে । আর তার পিছনে নেপথ্যের অবদান তরিকুল ইসলামের । কারন তরিকুল ভাই নিজেই খুব সাহসী মনোবল নিয়ে চলতেন, অন্যায়ের সাথে কোন দিন আপোষ করেননি।

প্রতিমন্ত্রী, পূর্ন মন্ত্রী এবং বিএনপির শীর্ষ নেতা হবার পরও তার আচার আচরনে কোন পরিবর্তন হয়নি। তিনি মানুষকে খুব অল্প সময় আপন করে নিতে পারতেন । এখানে একটা কথা না বললে নয়, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একটি অংশের সভাপতি মরহুম গিয়াস কামাল চৌধুরী এবং মহাসচিব মঞ্জুরুল আলম আর ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী। আমি তখন বিএফইউজের সিনিয়র সহ সভাপতি । বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এবং চরমপন্থী আর মন্ত্রাসী দমনের জন্য দেশে তখন সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অপারেশন ক্লিন হার্ট অপারেশন চলছে । তরিকুল ইসলাম তখন তথ্য মন্ত্রী । সাংবাদিক নেতা জহিরুল হকের নেতৃত্বে আমরা বিএফইউজের নির্বাচিত কর্মকর্তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাত করি। তরিকুল ভাই সহ সেখানে তখন তৎকালিন অর্থ মন্ত্রী সাইফুর রহমানও ছিলেন ।

সাংবাদিকদের দাবি দাওয়া ছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সরকারী মালিকানাধীন দৈনিক বাংলা পূন প্রকাশ। প্রধানমন্ত্রী কিছুটা রাজি হলেও বাগড়া দেন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান। তিনি আর্থিক লোকসান থাকা পত্রিকাটি আর চালু করতে চান না । এই সময় তথ্য মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আর্থিক লোকসানের কারনে পত্রিকাটি আওয়ামী লীগ সরকার বন্ধ করেনি। পত্রিকাটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দিয়ে বন্ধ হয়েছে, সরকারকে রাজণৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চালু করতে হবে । কারন সেখানে আমাদের মনা সাংবাদিক বেশী কর্মরত ছিল।

এক পর্যায়ে অপারেশন ক্নিন হার্ট যশোরে বন্ধ করার জোর দাবি জানান তরিকুল ইসলাম, তিনি বলেন যশোর জেলায় কোন হত্যাকান্ড নেই । তিনি জোর দিয়ে বলেন এই অপারেশনের কারনে প্রকৃত সন্ত্রাসী আর চরমপন্ধিরা এলাকা ছাড়া । এখন বিএনপি, যুবদলের যে উগ্রপন্থীরা মাঠে রয়েছে তারা এই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে । প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়ে কথা গুলি শুনলেন ,কিন্তু কোন মন্তব্য করলেন না । পরে অর্থ মন্ত্রী সাইফুর রহমান রুম থেকে বের হয়ে তরিকুল ভাইকে বললেন, ‘আপনার তা ভাল সাহস, ম্যাডামের সামনে এভাবে কথা বলতে পারলেন, বলেন ম্যাডাম যদি রিঅ্যাক্ট করতেন তাহলে কী হতো?’

তরিকুল ভাই সঙ্গে সঙ্গে সাইফুর রহমানকে বলেছিলেন প্রকৃত চিত্র আপনার ম্যাডামকে দেন না বলেইে তো আজ এই অবস্থা । আর বলেন, আমার তো ‘বীচি’ আছে, কিন্ত আপনাদের তো ‘বীচি’ নাই, তা বলবেন কিভাবে?

আজ বিএনপির অনেক নেতাই আক্ষেপ করে বলেন অপারেশন ক্লিন হার্টে বিএনপি নিজেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দলের মারদাঙ্গা কর্মীদের হারিয়ে । তরিকুল ইসলাম অপদামস্তক ছিলেন স্পষ্টবাদী রাজনৈতিক ব্যক্তি, কোন ছল চাতুরি ছিল না তার ভিতর। তিনি সাদাকে সাদাই বলতেন। কি বললে কে খুশি বা কে অখুশী হবে তা তিনি ভাবতেন না । একজন মানুষ হিসাবে সব সময় অন্য একজন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।

চার দলীয় জোট সরকারের সময় তরিকুল ভাই বন ও পরিবেশ মন্ত্রী। খুলনায় রাত্রি যাপন করছেন। সন্ধ্যার পর তার সাথে সার্কিট হাউসে দেখা করতে গেলেই তিনি আমাকে ডেকে বলেন ,রাতে তার সাথে খাবার খেতে । রাতে খাবার টেবিলে বসা, তখন সুন্দরবনের ডিএফও, খুলনা সার্কেল রেঞ্জার সহ উর্ধতন কর্মকর্তা। খাবার টেবিলে আমাকে দেখিয়ে তরিকুল ভাই ডিএফও/ রেঞ্জারকে বললেন একে চেনেন –বড় সাংবাদিক , ক্ষুরধার লেখনি তার। আমি তরিকুল ভাইকে বিনীত ভাবে জানালাম যে দিন আপনি বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হয়েছেন সে দিন থেকে আমি সুন্দরবন বিভাগের কোন অফিসে যাই না। তরিকুল ভাই বলেন ,আমি জানি বলেই,ত সবাইকে তোকে চিনিয়ে দিলাম।

এমন প্রান খোলা মানুষ ছিলেন তিনি ,যারা তার সাথে ঘনিষ্ট ভাবে মিশেছে একমাত্র তারাই বলতে পারে তরিকুল ইসলামের হৃদ্যের বিশালতা । তিনি মন্ত্রী হবার আগে যাদের সাথে যে ভাবে মিশতেন, মন্ত্রী হবার পরও তাদের সাথে সেই সব স্থানে গিয়ে সময় কাটাতেন। অনেক সময় তিনি কোন প্রটোকল না নিয়ে একা একাই গ্রাম গঞ্জে সাধারন মানুষের সাথে মিশে যেতেন। গ্রামের চায়ের টুলে বসে সবার খোজ খবর নিতেন।

তরিকুল ইসলামের মরদেহ যশোর আসে ৫ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে । তাকে একনজর দেখার জন্য দুরাদরান্ত থেকে এত সাধারন মানুষ এসেছে যা অকল্পনীয় । সকাল থেকে মানুষের ঢল নামে তরিকুলের বাড়ীমুখি। এই জনস্রোত এত বেশী ছিল যা নিয়ন্ত্রন করতে দ্রুত বাড়ী থেকে পার্টি অফিসে না নিয়ে যশোর ঈদ গাঁ ময়দানে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানেও ছিল জনতার উপচে পড়া ভীড় । যশোরের সাংবাদিকদের মতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন সভা হলেও এত মানুষ এখানে জমায়েত হয় না। তরিকুল ভাইকে এক নজর দেখার জন্য দুর দারান্ত থেকে সব বয়সের সাধারন মানুষ উন্মাদের মতন ছুটেছে । ঘন্টার পর ঘন্টা ফুল হাতে মানুষকে রাস্তার উপর অপেক্ষা করতে দেখেছি।

রাজনৈতিক নেতার প্রতি সাধারন মানুষের এত নীবিড় ভালবাস বা ভক্তি শ্রদ্ধা তা তরিকুল ভাই জানাজায় যারা না এসেছে তার কোন দিন বুঝবে না । যে দক্ষিনাঞ্চলের সাধারন মানুষের সাথে তরিকুল ইসলামের কত গভীর ছিল নাড়ির টান। অনেক বয়স্ক অচল মানুষকেও আমি জানাজায় উপস্থিত থেকে কাঁদতে দেখিছি । আমার সাংবাদিকতার বয়স সব মিলিয়ে ৩৫/৩৬ বছর পারন হতে চলল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা লক্ষ মানুষের ঢল নেমে ছিল, ঠিক তেমনি যশোরের মত ছোট শহরে সব বয়সের নারী –পুরুষের যে শদ্ধা জানালো জন নেতা তরিকুল ইসলামকে তা ইতিহাস হয়ে চির স্বরনীয় হয়ে থাকবে । তাই আজ হৃদয় থেকে উচ্চারতি হচ্ছে তরিকুল ইসলাম তুমি ক্ষণজন্মা লিডার, লিডার তোমায় স্যালুট জানাই।

লেখক : মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, এনটিভির খুলনা ব্যুরো প্রধান হিসাবে কর্মরত



প্রকাশক ও সম্পাদক : শাহিন রহমান

অফিস : ১১৪ নাখালপাড়া, ঢাকা-১২১৫
Email : prothomshomoy@gmail.com