বুধবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮


সেফাত উল্লাহ মানসিক রোগী : দাবি পরিবারের





অনলাইন ডেস্ক : ‘আমি বিশ্ববিখ্যাত, সেলেব্রিটি, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দার্শনিক, হলিউড অভিনেতা। আমি প্রেম সম্রাট সেফায়েত উল্লাহ। কী! হিংসে হয়? আমার মতো হতে চাও?’ ফেসবুক লাইভে এসে এভাবেই নিজের কথা বলেন সেফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদা। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং ইউটিউবে সবচেয়ে আলোচিত এবং সমালোচিত ব্যক্তি তিনি। প্রায়ই তিনি ফেসবুক লাইভে এসে অদ্ভুত, অশ্লীল এবং কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলেন। নিজেকে মুক্তমনা, কবি, সাহিত্যিক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, অভিনেতা ও জাতিসংঘের প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেন। একজন সম্ভ্রান্ত এবং ধনী ব্যক্তি হিসেবেও পরিচয় দেন এই সেফাত উল্লাহ।

বাংলাদেশের জনগণকে অশিক্ষিত, গরিব, মুর্খ এবং ছোটলোক বলে সম্বোধন করেন। রাজনৈতিক নেতাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এই গালিগালাজকে তিনি নাম দিয়েছন, ‘শব্দ বোমা’। লাইভে বাংলাদেশের জনগণকে তিনি মদ খাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, মদ না খেলে বাঙালি কখনও মানুষ হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেফাত উল্লাহর বাড়ি চাঁদপুরে। একটি লাইভে তিনি দাবি করেন, সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার জন্ম ১৯৫৩ সালে। সেই হিসেবে তার বয়স ৬৫ বছর। তবে তার প্রকৃত বয়স এর চেয়ে বেশি বলে দাবি করেন তিনি। সেফাত উল্লাহ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন বলেও জানা যায়। বর্তমানে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাতে বাস করছেন।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে সেফাত উল্লাহর স্ত্রী বলেছেন, ২৮ বছর আগে দেশ ছাড়েন তিনি। তারপর থেকেই পরিবার থেকে তিনি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। পরিবারের দাবি, বর্তমানে তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত। আর তার এমন কর্মকাণ্ডে পরিবার এবং আত্মীয়স্বজন বিব্রত।

সেফাত উল্লাহর স্ত্রী আরেও বলেছেন, আত্মীয়স্বজনের কাছে আমাদের মুখ নাই। কেমন লাগছে তা আমরা জানি। এখন এগুলো কি বন্ধ করার কোনও পথ নাই? ইউটিউব কি এগুলোর কোনও প্রতিকার করতে পারে না? আর উনি তো সিজোফ্রেনিয়া রোগী।

অস্ট্রিয়া প্রবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, দেশটিতে বসবাসের জন্য কোনও বৈধ কাগজপত্র নেই সেফাত উল্লাহর। ১৯৯০ সাল থেকে ভিয়েনায় আছেন তিনি।

অস্ট্রিয়া প্রবাসী সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদ জানান, ভিয়েনা বাংলাদেশ কমিউনিটির এক পারিবারিক বিবাদে জড়িয়ে আদালতের রায়ে দীর্ঘদিন জেল খাটেন সেফাত উল্লাহ। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর অস্ট্রিয়ার আইন অনুযায়ী তার সেখানে লিগ্যাল হওয়ার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এ সময় ব্যাপকভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন সেফাত উল্লাহ।

আহমেদ ফিরোজ আরেও জানান, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তার প্রতি মানুষের আগ্রহ সেফাত উল্লাহকে আরও বেশি উন্মাদ করে তুলেছে। বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে অস্ট্রিয়া সরকার। ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে আসার সময়েই তিনি বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল ভিডিওবার্তা দিচ্ছেন, যাতে বাংলাদেশি জনগণ তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। আর এই কারণ দেখিয়ে তিনি অস্ট্রিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার পথ সুগম করতে চান।

তিনি জানান, ভিয়েনায় বাংলাদেশ দূতাবাস সেফাত উল্লাহর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অবগত আছেন। ভিয়েনায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। অচিরেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে সেফাত উল্লাহ আসলে মানসিক ভারসাম্যহীন কিনা সে বিষয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। ভিয়েনাতে তিনি চাকরি করছেন। তিনি যদি আসলেই সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত হন তাহলে কীভাবে চাকরি সামলাচ্ছেন? তিনি একাই একটি বড় বাসায় থাকেন। পরিপাটি হয়ে অফিসে যান। অনেকেই দাবি করছেন, অতিরিক্ত মদ পানের জন্যই এমন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন তিনি। তার প্রচুর মদ পানের প্রমাণ মেলে ফেসবুক লাইভে। প্রায়ই লাইভে তাকে মদ পান করতে দেখা যায়।

সম্প্রতি আসাদ পংপং নামে মালয়েশিয়া প্রবাসী এক বাংলাদেশি ফেসবুকে বেপরোয়া ও অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোয় তাকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারী জানান, বিদেশে বসে যারা দেশ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন সৃষ্টি করলে, সে বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আমাদের রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে শনাক্ত করেছি এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, অন্যদেরও আমরা চিহ্নিত করছি যেখানেই থাকুন না কেন।



প্রকাশক ও সম্পাদক : শাহিন রহমান

অফিস : ১১৪ নাখালপাড়া, ঢাকা-১২১৫
Email : [email protected]