বুধবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • হোম » অর্থ বাণিজ্য » দুর্নীতি ও লুটেরাদের নিয়ন্ত্রণ করা গেলে প্রবৃদ্ধি বাড়ত : এম এম আকাশ


দুর্নীতি ও লুটেরাদের নিয়ন্ত্রণ করা গেলে প্রবৃদ্ধি বাড়ত : এম এম আকাশ





নিজস্ব প্রতিবেদক : যদি দুর্নীতি আর ব্যাংক লুটেরাদের নিয়ন্ত্রণ করা যেত তাহলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি আরও বেশি হতো বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এম এম আকাশ। রোববার (১০ জুন) ২০১৮-১৯ সালের বাজেটে জনগণের দাবি-দাওয়ার প্রতিফলন ও প্রক্রিয়ার বিশ্লেষণ নিয়ে ইকোনমিক রিপোটার্স ফোরামের (ইআরএফ) কনফারেন্স হলে ‘জাতীয় বাজেট ২০১৮-১৯ পর্যালোচনা: সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় তিনি এ কথা বলেন। গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন ও ইআরএফ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

এম এম আকাশ বলেন, দেশে বর্তমানে যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হচ্ছে সেটা আরও অনেক বেশি হতে পারত যদি দুর্নীতি ও ব্যাংক লুটেরাদের নিয়ন্ত্রণ করা যেত। কিন্তু এসব লুটেরাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না সরকার। কারণ তাদের টাকার উপর দাঁড়িয়ে সরকার নির্বাচন করবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, রানা প্লাজা ধ্বসের ক্ষতিপূরণ কমিটির ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের দায়িত্বে ছিলাম। ওই কমিটিতে আর্মির পাওয়ার ফুল লোকও ছিল। কিন্তু আমাদের কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু বাইরের দেশ যখন বলল ক্ষতিপূরণ না দিলে পোশাক কিনব না। তখন ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বাস্তবায়িত হলো। ‘সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে যে লুটেরাদের নিয়ন্ত্রণ করা এতটা সোজা নয়। এদের পক্ষে রয়েছে তিনটি গ্রুপ। অসৎ ব্যবসায়ী, অসৎ আমলা এবং অসৎ রাজনৈতিক। এদের সাবইকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে খুব বেশি আগানো যাবে না।‘

তিনি আরও বলেন, দেশের আজকের যে উন্নয়ন তা জনগণের কঠোর পরিশ্রমের ফল, এখানে সরকারে বিশেষ কোনো কৃতিত্ব নেই। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি, তৈরি পোশাক খাত, প্রবাসী আয় ও এসএমই খাতের অবদান এখানে মুখ্য। বর্তমান সরকার এখন যে অবকাঠামোভিত্তিক উন্নয়ন দর্শন চিন্তা করছে তা আদৌ সফল হবে না যদি কমর্সংস্থানের জন্য দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করা না যায়। আর দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে দরকার মানসম্মত সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো সামাজিক ও মানবিক উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ। কিন্তু সরকার করছে তার উল্টো। তাই এ বাজেট কর্সংস্থানমুখী নয় বরং মেগা প্রজেক্টমুখী বলা যেতে পারে।

গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের গবেষণা সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা বলেন, মেগা প্রকল্পের ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য-পুষ্টিসহ সামাজিক ও মানবিক উন্নয়ন খাতে বাজেট প্রতিবছর কমছে। যার ফলশ্রুতিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে না। একইসঙ্গে সমাজে আয় বৈষম্য বাড়ছে। সরকারি হিসাবে শীর্ষ ৫ শতাংশ মানুষের আয় সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ আয়ের চেয়ে ১২১ গুণ বেড়েছে। ২০১০ সালে এ ব্যবধান ছিল ৩১.৫ গুণ। বিশ্লেষণ শেষে তিনি প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা, জনকল্যাণ ও সামাজিক খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাসে উন্নয়ন ও বাজেটের বিকেন্দ্রীকরণের মতো তিনটি কৌশলগত সমাধানের প্রস্তাব করেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এ.আর. আমান, স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ডা. রশিদ ই মাহবুব, বিজনেস ইনিসিয়েটিভ লিডিং চেঞ্জের (বিল্ড) সিইও ফেরদৌস আরা বেগম, ইআরএফ সভাপতি সাইফুল ইসলাম দিলাল, সহসভাপতি সালাহউদ্দীন বাবলু প্রমুখ।



প্রকাশক ও সম্পাদক : শাহিন রহমান

অফিস : ১১৪ নাখালপাড়া, ঢাকা-১২১৫
Email : [email protected]