মঙ্গলবার , ১৬ অক্টোবর ২০১৮


মহাকাশে প্রাণের সন্ধানে নামছেন বিজ্ঞানীরা





অনলাইন ডেস্ক : মৃত্যুর আগে একাধিকবার দূর মহাকাশে প্রাণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ স্টিফেন হকিং। ব্রিটিশ এই বিজ্ঞানীর কথা গোড়ায় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাসহ জ্যোতির্বিদেরা মানতে না চাইলেও এখন তাদেরও ধারণা পাল্টেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার এক প্রতিবদেনে জানায়, বিজ্ঞানীরা মহাকাশে প্রাণের সন্ধানের জন্য বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। লক্ষ কোটি মাইল দূরে অবস্থিত অসংখ্য নক্ষত্রের মধ্যে সত্যি কোনো প্রাণের উপযোগী গ্রহ আছে কিনা, এবং সেখানে উন্নত সভ্যতা টিকে রয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা করবেন বিজ্ঞানীরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দূর মহাকাশে বিশেষ সংকেত পাঠানো হবে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন নক্ষত্রমণ্ডলের উপরও নজর বাড়ানো হবে। শোনার চেষ্টা করা হবে, সত্যিই কোনো উন্নত সভ্যতা আমাদের উদ্দেশ্যে সংকেত পাঠাচ্ছে কিনা। এখানেই শেষ নয়, দূর মহাকাশ পাড়ি দেয়ার জন্য এরইমধ্যে নাসা উন্নতমানের মহাকাশযান তৈরির কাজ হাতে নিয়েছে। চেষ্টা চলছে নতুন ধরনের জ্বালানী তৈরি কাজও।

মহাকাশ যাত্রায় পৃথিবীবাসীর সবচেয়ে দুর্বলতা হচ্ছে জ্বালানী সুবিধা। মূলত পৃথিবী পাড়ি দিয়ে মহাকাশে পৌঁছাতেই প্রচুর জ্বালানী নষ্ট হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে যে পরিমাণ জ্বালানীর প্রয়োজন তা সঙ্গে রাখার স্থান সংকুলান হয় না। ফলে বিজ্ঞানীরা মহাকাশ যাত্রায় অল্প খরচে বেশি শক্তি এবং কম জায়গা নেবে এমন জ্বালানীর সন্ধান করছেন। তাছাড়া মহাকাশযানের জন্য বিজ্ঞানীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানী উদ্ভাবনেরও চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত গ্রহের সন্ধানে দূর নক্ষত্রে অভিযান চালানোর মতো সক্ষমতা বিজ্ঞানীরা অর্জন করতে পারেননি।

প্রতিবেদনে অবশ্য বলা হচ্ছে, এতদিন পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে বিজ্ঞানীরা কোমর বেঁধেই মাঠে নেমেছেন। প্রতিটি প্রকল্পই চলছে দ্রুত গতিতে। অর্থায়নেও শক্তিমান দেশগুলো এখন উদার। এমনকি মার্ক জুকারবার্গের মতো ব্যবসায়ীরাও এসব খাতে দেদারসে অর্থ ঢালছেন।

পৃথিবী ত্যাগের আগে স্টিফেন হকিং বিভিন্ন সম্মেলনে একাধিকবার বলেছেন, এই মহাকাশে আমরা একা ভাবাটাই নির্বুদ্ধিতার লক্ষণ। যেখানে মহাকাশে ছড়িয়ে রয়েছে সূর্যের মতো কোটি কোটি নক্ষত্র। কাজেই সেসব নক্ষত্রে প্রাণের উপযোগী গ্রহ থাকবে না তা কোনো যুক্তিতেই খাটে না। অবশ্য দূর মহাকাশের বুদ্ধিমান প্রাণীদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিরোধী ছিলেন স্টিফেন হকিং।

তার মতে, উন্নত ও ক্ষমতাশালীরা সাধারণত দুর্বলদের উপর শাসন ও শোষণই চালিয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে তিনি আফ্রিকা আবিষ্কারের পর শেতাঙ্গদের দাস ব্যবসা কিংবা কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার এবং পরবর্তী ইতিহাস তুলে ধরেছেন। পৃথিবীতেই মানুষেরা যদি মানুষের উপর এমন আচরণ করতে পারে তবে ভিনগ্রহীরা যে এমনটা করবে না তার নিশ্চয়তা কি? বিজ্ঞানীরা অবশ্য স্টিফেন হকিং’র কথা মাথায় রাখলেও গবেষণা চালিয়েই যাবেন। তাদের কথা হচ্ছে, পরে যা হবার হবে! আগে জানতে তো হবে এই বিশাল মহাকাশে সত্যিই কি আমরা একাই টিকে রয়েছি? নাকি প্রতিবেশীরাও রয়েছে?



প্রকাশক ও সম্পাদক : শাহিন রহমান

অফিস : ১১৪ নাখালপাড়া, ঢাকা-১২১৫
Email : [email protected]